শহরের রাস্তায় একদিন

এই ত সবে মাত্র ক' দিন  হল শহরে আসলাম। শহরের চার পাশটা কেমন যে অন্ধকার দেখাচ্ছে।এর আগে কোন দিনো শহরে আসিনি।চোখ  মুছতে মুছতে সামনের দিকে এগিয়ে গেলাম। রাত তখন পনে ০১.০০ টা বাজে।দু' একটা করে গাড়ি চলছে।পথ যাত্রী নেই বললেই চলে।

মনে হচ্ছে যেন হারিয়ে যাই অজানা এক পথে।যেখানে কেউ আমাকে খুঁজে  পাবে না।আহা কি মনমুদ্ধ কর পরিবেশ।বাসা বেশ মেইল খানেক দূরে তো হবেই।হালকা একটু পা ব্যাথা শুরু হয়ে গেছে। আশে পাশে কোন রিক্সা নাই। শুরু করলাম আবার হাঁটা।

কিছু দূর যেতেই ভেসে আসল কান্নার আওয়াজ।খুঁজতে লাগলাম কোথা থেকে আসতেছে।সামনে বাড়লাম।কি অদ্ভূত এক জায়গা।কিছু একটা গোলমাল লাগছে।এখনো খুঁজে পাইনি কাউকে। নিরিবিলি এলাকা থেকে কান্নার আওয়াজ।একটু ভয় অনুভূত হলেও কৌতহল ভাবেই সামনে এগিয়ে যাচ্ছি।

হঠাৎ করে সামনে একটা ঘর দেখতে পেলাম।কান পেতে শুনলাম এই ঘর থেকে কান্নার আওয়াজ আসছে। ঘরটা খড় দিয়ে তৈরি।আমি ঘরটার সামনের দিকে গেলাম, দেখি ভিতর থেকে আটকানো। দরজায় শব্দ করার একটু পরেই খুঁলে গেল দরজা। চোখ মুছতে মুছতে একটা মেয়ে দরজা খুঁলে দিল।

মেয়েটার বয়স আনুমানিক ১৫ কি ১৬ হবে।


মেয়েটিঃ আপনি কে? আপনি কি আমাকে ভোগ করতে এসেছেন।

আমিঃ না মানে, আমি এই শহরে নতুন। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় কান্নার আওয়াজ পেয়ে এখানে চলে আসলাম।

মেয়েটিঃ কেন এসেছেন এখানে।

আমিঃ এত রাতে কান্নার আওয়াজ শুনে ছুটে আসলাম এখানে। কাঁদতেছেন কেন?

মেয়েটিঃ আমার বাবা-মা কেউ নাই। এই শহরের বস্তিতে বড় হয়েছি। আমাকে দেখার মত কেউ নাই।কিছু খারাপ লোক আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে।

আমিঃ ওহ...এখানে আপনার অনেক কষ্ট হয়।

মেয়েটিঃ কষ্ট । এটাতো আমার প্রতিদিনের সাথী।

আমিঃ তাহলে এখানে পড়ে আছেন কেন?

মেয়েটিঃ আমাকে এখানে আটকে রাখা হয়েছে।

আমিঃ কেন?

মেয়েটিঃ কয়েক জনের খাবার হয়ে বেঁচে আছি।

আমিঃ মানে কি। আপনি ওদের কিছু বলেন না।

মেয়েটিঃ অনেক বলেছি কাজ হয় নাই।

আমিঃ আমার সাথে যাবেন।

মেয়েটিঃ কই?

আমিঃ আমি যেখানে নিয়ে যাব।

মেয়েটিঃ না। ওরা আমাকে মেরে ফেলবে,সঙ্গে আপনাকেও। ওরা আসার সময় হয়েছে আপনি চলে যান।

আমিঃ কে আসবে।

মেয়েটিঃ কয়েকজন ছেলে। প্লিজ আপনি চলে যান।

আমিঃ ওকে।


অবশেষে আমি চলে গেলাম। আর আসা হয়নি ওই এলাকায়। শেষ পযর্ন্ত মেয়েটির সাথে কি হয়েছিল তাও আর জানা হল না।

শহরের রাস্তায় একদিন
Latest
Next Post
আমি তুহিন মিয়া।
অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। বাংলা সাহিত্য।
শ্রীপুর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলি সরকারি কলেজ, গাজীপুর।
ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত দিন

0 Post a Comment:

Mr. Tuhin